নীলফামারীতে ‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০২২, ১০:০৪ PM /
নীলফামারীতে ‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা

নাসির উদ্দিন শাহ্ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের স্বৃতিচারণ, বীরত্বগাথা ও মুক্তিযুদ্ধে বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ মার্চ)সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা মুরাদ হাসান বেগ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম মুক্তারুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহসান রহিম মঞ্জিল।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মন্ডল। আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,‘হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কখনও বিচ্ছিন্ন করে ভাবা যায় না। তিনিই ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রান পুরুষ। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দ্যেশ্যে যে ভাষণ প্রদান করেন তা আজও শুনলে গা শিউরে উঠে।

বঙ্গবন্ধু তার ধৈর্যশীল রাজনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি পাকিস্তানিদের হিংস্রতা ও নৃশংসতার বিবরণ দিয়ে পরবর্তী দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন এভাবে- ‘আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে কোর্ট, কাছারি, আদালত, ফৌজদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে… আর যদি একটি গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইল- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ ২৫ মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী বাঙালিদের নিধনে অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে গণহত্যা শুরু করে।

এ প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন এবং সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালীরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। তিনি বাঙালীকে নিজের দেশ মাতৃকা রক্ষার তাৎপর্য বুঝিয়ে দেন। তাকে ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তির যুদ্ধ ভাবা যায় না। ’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সাবেক উপ-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম আমিনুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কান্তি ভূষণ কুন্ডু, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু বংকু বিহারী রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু শ্যামচরণ রায়,জেলা পরিষদ সদস্য ইসরাত পল্লবী সহ আরো অনেকে।

এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন রুপম মহসিন রেজা ও রিফাত আরা সিমি। এসময় পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।