২১কোটি ৫৭ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১, ২০২২, ১২:৩২ PM /
২১কোটি ৫৭ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা

মো.শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

চীন থেকে বন্ড সুবিধায় কর্টন ইয়ার্ন বা সুতার ঘোষণায় ৮৭৯ কার্টন বিদেশি সিগারেট নিয়ে এসেছে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের তিয়ানে আউটডোর (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

মিথ্যা ঘোষণায় এসব সিগারেট আমদানির মাধ্যমে আমদানিকারক ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক চালানটি খালাসের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি নগরীর ডবলুমরিং থানার স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রনি শিপিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। যার নম্বর-সি-৫৬৪৪৯।

পরবর্তীতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমদানিকারক ইপিজেড কাস্টমসকে দলিল দাখিল করে। দাখিলকৃত দলিলে আইপির (ইমপোর্ট পারমিট) বিষয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। এছাড়া বেপজা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আইপি যাচাইয়ে গড়মিল পান কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এআইআর টিম চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে।

এছাড়া চালানটির কায়িক পরীক্ষার জন্য পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি কন্টেনার ফোর্স কিপডাউন করে চট্টগ্রাম বন্দরকে চিঠি দেয়া হয় এবং গতকাল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ও সরকারের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে এআইআর টিম কায়িক পরীক্ষা শুরু করে। কায়িক পরীক্ষায় ৮৭৯ কার্টনে সর্বমোট এক কোটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়।

এরমধ্যে ছিল-অরিস সিলভার ১ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার শলাকা, অরিস গোল্ড ১৮ লাখ ৮০ হাজার, ইজি গোল্ড ১০ লাখ শলাকা, ডানহিল ২ লাখ ৫০ হাজার শলাকা, ডানহিল সুইচ ২ লাখ ৪০ হাজার শলাকা, অরিস ডাবল অ্যাপল ১ লাখ শলাকা, অরিস স্ট্রবেরি ১ লাখ শলাকা, বেনসন অ্যান্ড হেজস ২ লাখ ৬০ হাজার শলাকা এবং মন্ড ব্র্যান্ডের ৬০ হাজার শলাকা সিগারেট পাওয়া যায়।

শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (এআইআর শাখা) মো. শরফুদ্দিন মিঞা বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আসা সিগারেটগুলো উচ্চ শুল্কের। বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

এসব সিগারেট এনে আমদানিকরক প্রায় ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কর ফাঁকির চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম দৈনিক দেশবাংলাকে বলেন, কাস্টম আইন ১৯৬৯ এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী দোষীদের ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।