২০২৫ সালের পর আর পোড়ানো ইট নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২০, ২০২২, ৩:০৯ PM /
২০২৫ সালের পর আর পোড়ানো ইট নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ভবন নির্মাণে ইটের পরিবর্তে বালু, সিমেন্ট ও নুড়ি পাথরের ব্লক ব্যবহার বাড়াতে হবে। এটি পরিবেশবান্ধব ও ব্লকের তৈরি ভবন ভূমিকম্প সহনীয়। এতে নির্মাণ ব্যয়ও কম। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পে ইটের বদলে ব্লক ব্যবহার করতে হবে। ২০২৫ সালের পর আর পোড়ানো ইট নয় ব্লকে যেতে হবে।

রোববার(২০ মার্চ) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তিকরণ’ বিষয়ক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ সালে পোড়ানো ইটের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। নানা উন্নয়ন প্রকল্পেও ইটের বদলে ব্লক ব্যবহার হচ্ছে। তবে ২০২৪-২৫ সালে গিয়ে ইটের বদলে শতভাগ ব্লকে চলে আসবো। এরপর আর ইট ব্যবহার করা হবে না। অনেক সচিব বলেন- এটা কেউ মানছে না। যারা নির্মাণ কাজ করে বিশেষ করে সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, এলজিইডি তাদেরও ব্লক ব্যবহার করতে হবে।

এম এ মান্নান বলেন, আমারা নির্মাণ বলতেই ইটের ব্যবহার বুঝি। গানে কবিতায় ইট পাথরের শহর বলে থাকি। ইট আমাদের অতি পরিচিত শব্দ। তবে পরিবেশ বাঁচাতে ইটের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে।

পোড়ানো ইটের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ইট পুড়িয়ে ব্যবহার করি। এটা দূষণের অন্যতম উৎস। উন্নত দেশগুলো ইট পুড়িয়ে ব্যবহার করে না। তারা দূষণের উৎস ব্যবহার করে না। এশীয় অঞ্চলের জাপানেও ইট পুড়িয়ে ব্যবহার করে না। অনেকে বলে আমাদের প্রতিবেশীদের খবর কী? ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাও পর্যায়ক্রমে পোড়ানো ইট ব্যবহার থেকে সরে যাচ্ছে। এসব দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। ইট পোড়ানো বন্ধ হলে দূষণ থেকে রক্ষা পাবো। সেই বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকার একটা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

‘যেহেতু প্রযুক্তি আছে ও ওই ধরণের মাটিও আছে। তাই সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) সমর্থন করেছেন ইটের বদলে ব্লকে যেতে হবে। এটা করা উচিত। উনার (প্রধানমন্ত্রী) কথা মতোই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ব্লক ব্যবহারে সরকার নানা ধরনের প্রকল্প সহায়তা দেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রকল্প নিয়ে আসেন আমরা অনুমোদন দিয়ে দেবো। আজ সঙ্গত কারণেই ব্লক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা জরুরি। এটা আমাদের নির্দেশনা দিতে হবে। পরিবেশ এমন একটা জিনিস এটাকে রক্ষা করতেই হবে। আমরা পরিবেশ দূষণ নিয়ে শঙ্কিত। আমরা পরিবেশ থেকেই উৎপত্তি আবার পরিবেশেই ফিরে যাবো। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আপনাদের সঙ্গে থাকবে। পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ করতে যা প্রয়োজন তাই করবো।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। যেখানে ঢাকায় খুব গরম দেখা যায়, সেখানে গ্রামে শীত। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মানুষ আশঙ্কায় আছে। নানা কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু মোকাবিলার জন্য নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। তবে জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢিলেমি হয়, সময় বেশি লাগে। জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে গিয়ে প্রায়ই হোঁচট খেতে হয়। এটা নিয়ে আমাকে নানা ধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়। এর সঙ্গে আরও নানা কিছু বিষয় আছে। সরকারের নির্দেশনাগুলোও বাস্তবায়ন করতে হয়। এসব কারণেই মূলত জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে হোঁচট খেতে হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ইউএনডিপির (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী) আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশ