সৈয়দপুরে পরচুলায় ভাগ্য খুলেছে লক্ষাধিক নারীর 


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২২, ২০২২, ৪:২৬ AM /
সৈয়দপুরে পরচুলায় ভাগ্য খুলেছে লক্ষাধিক নারীর 
শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করে লক্ষাধিক নারীর ভাগ্য খুলেছে। স্বাবলম্বী হয়েছে অনেক পরিবার। নারীরা তাদের নিজের রোজগারে স্বচ্ছলতার মুখ দেখে আত্মপরিচয় লাভ করেছে। ফলে বিয়ে করার জন্য নিজের ইচ্ছেমত পছন্দের বরও খুজে নিচ্ছে। এক কথায় এইকাজ করে আত্মশক্তিতে বলিয়ান হওয়ার পাশাপাশি সুখের নাগালও পেয়েছে তারা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন, হাতিখানা কবরস্থান সড়ক, নিয়ামতপুর সুটকি বন্দর এলাকা, উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর সিপাইগঞ্জ বাজার ও কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথি, খাতামধুপুর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের নাপিতপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক পরচুলা তৈরির কারখানা। এসব কারখায় প্রায় লক্ষাধিক নারী কাজ করছে। সংসারের পাশাপাশি ওইসব নারীরা কারখানায় পরচুলা তৈরি করছেন।
এমনই একজন নারীকর্মী ময়না বেগম (৩৫) এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্বামী প্রচন্ড অলস। মাঝে মধ্যে দিনমজুরী করে সংসার চালাতো। দুই মেয়ে রয়েছে তাদের সংসারে। পড়া-শুনা করছে তারা। খাওয়া-দাওয়া, পড়া-শুনা ও সংসারে প্রয়োজনীয় অনেক খরচ। একারণে পরচুলা কারখানায় কাজ করছে।  পাশের বাড়ীর মজিদ মাস্টারের পরামর্শে পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করে ময়না বেগম। প্রথম ২ মাস একটু কষ্ট হলেও এখন পরচুলা সাজিয়ে খোপা তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। মাসে কত টাকা মাইনে পান জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেমন কাজ, তেমনই পয়সা। কোন মাসে ৭ হাজার টাকা , আবার কোন মাসে ১০/১২ হাজার টাকাও বেতন পান তিনি। এতে সংসারে অভাব-অনটন নেই বল্লেই চলে। শহরের হাতিখানা মহল্লার পরচুলা কারখানার উদ্যোক্তা সবুজ নামের এক ব্যক্তি বলেন, উত্তরা ইপিজেড এ দেখে প্রায় ২/৩ বছর আগে হাতিখানা কবরস্থান সড়ক সংলগ্ন পরচুলা তৈরির কারখানা শুরু করেন তিনি। প্রথম ২ মাস নারী শ্রমিক ছিল প্রায় ১০/১২ জন। এরপর আস্তে আস্তে প্রায় ৩ হাজার নারী শ্রমিক তার কারখানায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, শুরুর দিকে অভাবি নারীরা কাজ করলেও বর্তমানে মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরাও পরচুলা তৈরি করছেন। সৈয়দপুরের প্রায় ৩ ভাগ নারী এখন নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি সুদ মুক্ত ঋণ পাওয়া যেত তাহলে সৈয়দপুরে প্রায় সব নারীর জন্য তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারতেন। উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান লানচু চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে পরচুলা কারখানা হওয়ায় অনেক নারীর ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। পরচুলা কারখানায় কাজ করে নারীরা তাদের সংসারের অভাব-অনটন দুর করে সন্তানদের ভালোভাবে  পড়া-শুনা করাচ্ছেন।  ওই এলাকার উদ্যোক্তা  মুকুল রেজা জানান, তার পরচুলা কারখানায় প্রায় ২ হাজারেরও বেশি নারী পরচুলার কাজ করছেন। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক নারী কাজ করছেন সৈয়দপুরের বিভিন্ন পরচুলা কারখানায়। উদ্যোক্তারা নারীদের স্বাবলম্বী করতেই ঢাকা থেকে সাব কন্ট্রাক নিয়ে পরচুলা তৈরি করছেন। এতে নারীরাই তাদের সংসারের অভাব-অনটন ঘুচিয়ে পরিবর্তন এনেছেন। এব্যাপারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পরোশন (বিসিক) এর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা বেগম বলেন, নারীরাও যে আর পিছিয়ে নেই তা পরচুলা কারখানায় গেলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব কারখানায় নারীদের অংশগ্রহণের ফলে অর্থনীতির মেরুদন্ড মজবুত হতে চলেছে। নারীরা পরচুলা কারখানায় কাজ করে পরবর্তীতে নিজেরাই কারখানা গড়ে তুলছেন ঘরে ঘরে। তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুরে পরিত্যাক্ত অনেক সরকারি সম্পত্তি আছে। এসব সম্পত্তি দখলে রেখেছেন অনেকেই। সরকার ওইসব সম্পত্তি উদ্ধার করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিলে অনেক কর্মসৃজন প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে সৈয়দপুরে তথা নীলফামারী জেলায় আর কোন অভাব থাকবে না। অন্য দিকে স্থাপিত কারখানা থেকে অর্জিত হবে কোটি টাকার রাজস্ব।