সৈয়দপুরে মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সিআইডি’র চার্জশিট দাখিল 


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১১, ২০২২, ১২:০৪ AM /
সৈয়দপুরে মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সিআইডি’র চার্জশিট দাখিল 

নাসির উদ্দীন শাহ মিলন ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ।

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সকালে নীলফামারী জেলা জজ আদালত সূত্রে এই তথ্য জানা যায়। চার্জশিট গ্রহণের পর আদালত সমনও জারি করেছেন।

মামলা সূত্রে, সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার বাসিন্দা গাউসুল আজম ফারুকী ২০১৯ সালে তার নির্মাণাধীন ৬তলা বিল্ডিংয়ে লিফট স্থাপনের জন্য নতুনভাবে একটি নকশা নিয়ে পৌরসভায় গেলে তৎকালীন মেয়র কাউন্সিলরদের সাথে গাউসুল আজম ফারুকীর মামলার জের ধরে নকশা অনুমোদন করে নাই।

এই বিষয়ে গাউসুল আজম ফারুকী মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট নকশা অনুমোদন প্রদানের জন্য সেই সময়ের মেয়রকে আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশ পাওয়ার পরও তৎকালীন মেয়র নকশা অনুমোদন না করে সময় ক্ষেপন করেন।

ইতোমধ্যে ২০২০ সালে সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে মেয়র পদে রাফিকা আকতার জাহান আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। গাউসুল আজম ফারুকীর সাথে পূর্বের পরিচয় থাকায় রাফিকা আকতার জাহান গাউসুল আজম ফারুকীকে বলেন, নির্বাচনে তিনি শতভাগ জয়লাভ করবেন।

নির্বাচনে জিতে গেলে তিনি ফারুকীর নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের লিফট স্থাপনের নকশা অনুমোদন করে দিবেন। হাইকোর্টে যাওয়া লাগবেনা। এভাবে তিনি গাউসুল আজমকে নকশা অনুমোদন করে দেয়ার কথা দিয়ে নির্বাচনের আগেই ১ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে সেই চেকের টাকাও উত্তোলন করেন।

পরবর্তীতে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও রাফিকা আকতার জাহান নকশা অনুমোদন না দিয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন তালবাহানা ও হয়রানী করতে থাকেন এবং আরও ১ লাখ টাকা দাবী করেন। এতে রাজি না হলে তিনি গাউসুল আজমকে আবারও হয়রানী করাতে থাকেন।

এক পর্যায়ে গাউসুল আজম মেয়রের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলে মেয়র টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। নিরুপায় হয়ে গাউসুল আজম মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আমলী আদালত সৈয়দপুর নীলফামারীতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং পি-১০৬/২০২১ তারিখ- ২০/০৯/২০২১ ইং।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি কে আদেশ দেন। সিআইডি নীলফামারী এর পরিদর্শক একেএম খন্দকার মুহিবুল দীর্ঘ দিন মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মেয়র রাফিকা আকতার জাহানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযুক্ত করে গত ২৮/০২/২০২২ ইং তারিখে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন।

এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে আদালতে হাজিরার জন্য মেয়রের প্রতি সমন জারি করেছেন।

এ বিষয়ে গাউসুল আজম ফারুকী জানান, ফৌজদারি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামীর মেয়র পদে থাকার কোন এখতিয়ার নেই।মেয়রকে বরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করবো।