শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয়


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১৩, ২০২২, ১:৪৭ AM /
শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয়
শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও আমাদের করণীয়-
লেখক- আব্দুল মোমিন
শব্দ দূষণ বিষয়টি কত ডেসিবল শব্দে আপনি কতটুকু সময় কাটাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। ১২০ ডেসিবেল শব্দ সাথেই সাথে কান নষ্ট করে দিতে পারে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ৮৫ ডেসিবেল শব্দ যদি কোন ব্যক্তির কানে প্রবেশ করে তাহলে তাহলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি নষ্ট হবে। মানুষ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল শব্দে কথা বলে। ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত মানুষের কান গ্রহণ করতে পারে। ৮০’র উপরে গেলেই ক্ষতি শুরু হয়। বছর কয়েক আগে পরিবেশ অধিদফতরের করা এক জরিপে উঠে এসেছে যে মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশায় উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন সভা-সমিতি, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি, ভোগ্যপণ্য, এলইডি বাল্ব, ডিটারজেন্ট পাউডার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যাথলজি, কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টারের ভর্তি, মলম-মাজন-ইঁদুরের ওষুধ বিক্রি, গরু-ছাগল জবাইসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। ফলে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, অফিস, ব্যাংক-বিমার দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত হচ্ছে।
এ ছাড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ও অসহনীয় শব্দদূষণে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ রোগী ও পরীক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। রাতের বেলা মাইকের কর্কশ আওয়াজে পড়ার মনোযোগ নষ্ট করে দেয়, মাথা ধরে যায়।
শহরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায় দিন নেই,রাত নেই পাইলিং-এর কাজ, ইট ভাঙার যন্ত্র, সিমেন্ট মিক্সারের যথেচ্ছ ব্যাবহার হচ্ছে। সময় সম্পর্কে কোন বালাই নেই। বাংলাদেশে শব্দ দূষণের কারণে অনেক মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে উঠে আসে সাম্প্রতিক এক জরিপে।
শব্দ দূষণের উৎস (Source of Noise Pollution)
★হু (WHO)এর রিপোর্ট অনুযায়ী ট্রাফিক শব্দ হল বায়ু দূষণের পরে দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষণ (Pollution) কারক ।
★ ট্রাফিক সিগন্যালে একসঙ্গে কয়েকশ গাড়ির হর্ন বাজানোকে শব্দ দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
★ শব্দ দূষণের আর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো যানবাহন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে যানবাহন থেকে শব্দ দূষণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।
★ বিভিন্ন কল কারখানায় দ্রব্য উৎপাদনের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে সৃষ্ট আওয়াজ মারাত্মক শব্দ দূষণ ঘটায়। যে যন্ত্রের আওয়াজে কারখানার শ্রমিক সহ কারখানা অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষজন এর মধ্যে শব্দ দূষণের প্রকোপে পড়ে।
★ বিভিন্ন অফিসের শেয়ারবাজারে ,মিটিং, মিছিল জমায়েত স্কুল, কলেজ ,কোন অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকজন একসঙ্গে সমবেত হলে শব্দ দূষণ উৎপন্ন হয়।
★ কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি উপলক্ষে মাইক বাজানো হয় ও সাউন্ড সিস্টেমের মধ্যে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা শব্দ দূষণ ঘটায়। বাজি পটকা থেকে শব্দ দূষণ- আজকাল প্রত্যেক অনুষ্ঠান বাজি পোড়ানো বিশেষ  যে কোন অনুষ্ঠানে আতশবাজি শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে।
মাইক ও লাউড স্পিকারের ব্যবহারবিধিঃ-
★ বাংলাদেশে মাইকের ব্যাবহার খুবই জনপ্রিয়। বেশ কিছুদিন যাবত লাউড স্পিকারও ব্যবহার হচ্ছে।  রাজনৈতিক সভা থেকে শুরু করে বিয়ে,ধর্মীয় অনুষ্ঠান,পিকনিক সকল ক্ষেত্রে এর কানফাটানো শব্দ চলে। তবে আইনে শর্ত সাপেক্ষে এর অনুমতিও রয়েছে। খোলা জায়গায় বিয়ে,খেলাধুলা,কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,রাজনৈতিক বা অন্য কোন ধরনের সভা,মেলা,যাত্রাগান ইত্যাদির ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা অতিক্রম করে – এমন যন্ত্র ব্যাবহার করা যাবে।
★তবে তার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে,পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় এই শব্দ করা যাবে না এবং রাত দশটার মধ্যে এসব অনুষ্ঠান অবশ্যই শেষ করে ফেলতে হবে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা করা হয় না।
★ পিকনিকের ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থানে মাইক ও লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে। তবে সকাল নটা থেকে বিকেল পাঁচটার পর্যন্ত।এছাড়া ফেরার পথে এগুলো বাজানো যাবে না। আর পিকনিক আয়োজন করতে হবে আবাসিক এলাকা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দুরে।
হর্ন বাজানোঃ-
★ গাড়ির হর্নে রীতিমতো বধিরতার হার বেড়ে গেছে।
★ হর্ন বাজানো গাড়ি চালকদের বড় বদভ্যাস। ট্রাফিক সিগনাল ও জ্যামে আটকে থাকার সময় সামনে এগুনো যাবে না জেনেও হর্ন বাজান তারা।
★ সামনে কেউ ধীর গতিতে চললে,পথচারীকে উদ্দেশ্য করে প্রতিনিয়ত হর্ন বাজানো হয়।
★ যদিও বিধিমালায় বলা আছে কোন ধরনের মোটরযানে শব্দের মান অতিক্রমকারী হর্ন ব্যাবহার করা যাবে না।
★ নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ। কিন্তু গাড়ির হর্নে রীতিমতো বধিরতার হার বেড়ে গেছে ।
শব্দ দূষণ শরীরের যেসব ক্ষতি করেঃ
★ সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি লোপসহ উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বোধ, অনিদ্রা, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
★শব্দদূষণের প্রভাবে সর্বস্তরের মানুষ সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ছাত্র-ছাত্রী, শিশু, হাসপাতালের রোগী, ট্রাফিক পুলিশ, পথচারী ও গাড়িচালকরা শব্দদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শব্দদূষণ শিক্ষার্থীদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশের পথে বাধার সৃষ্টি করছে। দেশ ও জাতি বঞ্চিত হচ্ছে বিকশিত প্রজন্ম পাওয়া থেকে।
★ শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাদের মানসিক বিকাশের অন্তরায় শব্দদূষণ। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের ওপরে হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।
★ যে কোনো ধরনের শব্দদূষণই মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে গর্ভবতী মায়েদের। এতে সুস্থ অবস্থায় শিশুর জন্মগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার শব্দদূষণ যত বেশি সময় ধরে চলে তার ক্ষতিকর প্রভাবও তত বেশি হয়। দীর্ঘস্থায়ী শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে একজন মানুষের শারীরবৃত্তীয় বৈকল্য ক্রনিক আকারে দেখা দিতে পারে।
★ লম্বা সময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকার কারণে হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, স্মরণশক্তি হ্রাস, স্নায়ুর সমস্যা ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কান। অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে দীর্ঘ দিন কাটালে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া
★ অতিরিক্ত শব্দের কারণে কানের নার্ভ ও রিসেপ্টর সেলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মানুষ ধীরে ধীরে শ্রবণ শক্তি হারাতে থাকে এমনকি বধির হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শব্দ দূষণের আইনঃ
★ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্য কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের ওই এলাকার মধ্যে জোরে শব্দ করা যাবে না। কিন্তু শব্দসৃষ্টির যে বর্তমান অবস্থা, তাতে আমরা নির্ধারিত মানমাত্রার ধারে কাছেও নেই।
★ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এ ‘নীরব’, ‘আবাসিক’, ‘মিশ্র’, ‘বাণিজ্যিক’ ও ‘শিল্প’—এই পাঁচ এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে (ভোর ছয়টা থেকে রাত নয়টা) ৫০ ডেসিবেল ও রাতে (রাত নয়টা থেকে ভোর ছয়টা) ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫, রাতে ৪৫, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০, রাতে ৫০, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০, রাতে ৬০ ও শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫, রাতে হবে ৭০ ডেসিবেল। বিধিমালায় শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম না করার শর্তে মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহার করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধানও আছে, কিন্তু  মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে এ বিধান মানা হয় না।
★ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ১৮ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি প্রথম অপরাধের জন্য অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
★ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
★ শহরে উচ্চ শব্দে রাত-দিন মাইকিং চলছে,শহরে উচ্চ শব্দে রাত-দিন মাইকিং চলছে, বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।ঘুমানো যায় না। মাথাব্যথা করে। এসব বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর নজরদারি না হলে এই উপদ্রব থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।
★ আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণ কাজের জন্য ইট বা পাথর ভাঙার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু  শহরে আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা বলে কিছু আসলে নেই।
★ আবদ্ধ কোন স্থানে শব্দ করলে শব্দ যাতে বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও ভবনে কোন ধরনের নতুন কাজ, ড্রিল মেশিনের,অফিসের ডেকোরেশনে নিয়মিতই ভঙ্গ হচ্ছে এই নিয়ম।
★ বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা রয়েছে। তাতে বলা আছে সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত নির্মাণকাজের এসব যন্ত্র চালানো যাবে না।
★ বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত নটা থেকে ভোর ছটা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবেল।
★ হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের আশপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা রয়েছে। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে।
 আইন মানায় অনীহা কেনঃ
★ মানুষের আইন মানার অনীহা তখন তৈরি হয় যখন সে দেখে যে অপরাধ করলে,যেমন রাতের বেলা নির্মাণ কাজ করলে কোন কিছু হয় না। আইন প্রয়োগ না হওয়াটা যখন সমাজের মানুষ দেখতে পায় তখন তারা শব্দ দূষণ বা অন্য কোন অন্যায় করাটা স্বাভাবিক মনে করে। উদাহরণ “যেমন ঢাকায় ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে যখন কেউ প্রবেশ করে,সকল গাড়ির চালক কিন্তু সব নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাইরে গিয়ে একই বিষয় মেনে চলি না। কেন করি না?” “কারণ ক্যান্টনমেন্টে এলাকায় কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ হয় বলে মানুষের মধ্যে ভীতিটা তৈরি হয়েছে।”
শাস্তির যেসব বিধান রয়েছেঃ-
★ আইন ভঙ্গ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শব্দের উৎস যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবেন। বিধিমালায় যেসব উল্লেখ করা রয়েছে তা পালনে ব্যর্থতাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে।
★ শব্দ দূষণে দোষী হিসেবে প্রমাণিত হলে প্রথম অপরাধের জন্য একমাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা দু ধরনের দণ্ডই প্রদান করার বিধান রয়েছে।দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার কথা বলা রয়েছে।
★ আপনি শব্দ দূষণের শিকার এমন মনে হলে টেলিফোনে,লিখিত অথবা মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চাইতে পারেন।
শব্দ দূষণের প্রতিকার ও সমাধান
★ বন ও পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুসারে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শব্দ দূষণ রোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি।
★ শব্দদূষণের হাত থেকে বাঁচতে হলে চাই সকলের সচেতনতা। শব্দ দূষণের কারণগুলো বের করে তা প্রতিরোধ করা জরুরি। যতটুকু সম্ভব উচ্চশব্দ পরিহার করা। গাড়ির হর্নকে স্বাভাবিক করা। সুস্থভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকার জন্য শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়া সবারই কর্তব্য। তাই সবাই সচেতন হলে শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
★ এখন প্রশ্ন হলো, এ সমস্যার সমাধান কী? মনে রাখতে হবে যে শব্দদূষণ সৃষ্টির উৎস অনেক এবং অনেক ধরনের। তাই শুধু আইন তৈরি ও আইন প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যথার্থ কারণ ছাড়া যত্রতত্র মাইক বাজানো, উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজানো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে যানবাহনের হর্ন বাজানো কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। আবাসিক এলাকায় যাতে কলকারখানা গড়ে উঠতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
★  তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শব্দদূষণের কারণ ও ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে আরো বেশি করে শব্দদূষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অসুবিধা হলো, শব্দদূষণের ক্ষতি তাত্ক্ষণিক না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মানুষ বনাঞ্চল নিধন, বায়ুদূষণ বা পানিদূষণ নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ও প্রতিবাদমুখর, শব্দদূষণের ক্ষেত্রে ততটা নয়। কিন্তু শব্দদূষণের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর প্রতিকারের আকাঙ্ক্ষা যত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় ততই মঙ্গল।
★ শব্দের মানমাত্রা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ করা প্রয়োজন এবং বিদ্যমান যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টি করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া সভা-সমিতি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাগামহীনভাবে মাইক বাজানো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে।
★ শব্দদূষণ দিন দিন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কঠোর হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অন্তর্ভুক্ত করা, হর্ন বন্ধে অভিযান/মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং ট্রাফিক আইনে হর্ন বাজানোর শাস্তি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আমদানিনীতি অনুযায়ী হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, লাইসেন্স প্রদানের সময় চালকদের শব্দসচেতনতার স্তর যাচাই করা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা করা জরুরি।
শব্দ দূষণের প্রতিকার ও সমাধানঃ- 
শব্দদূষণের হাত থেকে বাঁচতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শব্দদূষণের কারণ ও ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।  শব্দ দূষণের কারণগুলো বের করে তা প্রতিরোধ করা জরুরি। যতটুকু সম্ভব উচ্চশব্দ পরিহার করা। গাড়ির হর্নকে স্বাভাবিক করা। সুস্থভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকার জন্য শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়া সবারই কর্তব্য। তাই সবাই সচেতন হলে শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অসুবিধা হলো, শব্দদূষণের ক্ষতি তাৎক্ষণিক না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মানুষ বনাঞ্চল নিধন, বায়ুদূষণ বা পানিদূষণ নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ও প্রতিবাদমুখর, শব্দদূষণের ক্ষেত্রে ততটা নয়। কিন্তু শব্দদূষণের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর প্রতিকারের আকাঙ্ক্ষা যত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় ততই মঙ্গল।
এখন প্রশ্ন হলো, এ সমস্যা জন্য সমাধান কী? মনে রাখতে হবে যে শব্দদূষণ সৃষ্টির উৎস অনেক এবং অনেক ধরনের। তাই শুধু আইন তৈরি ও আইন প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যথার্থ কারণ ছাড়া যত্রতত্র মাইক বাজানো, উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজানো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে যানবাহনের হর্ন বাজানো কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।
বন ও পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুসারে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় যাতে কলকারখানা গড়ে উঠতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যমান যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টি করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া সভা-সমিতি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাগামহীনভাবে মাইক বাজানো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে।
শব্দদূষণ দিন দিন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কঠোর হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অন্তর্ভুক্ত করা, হর্ন বন্ধে অভিযান/মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং ট্রাফিক আইনে হর্ন বাজানোর শাস্তি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আমদানিনীতি অনুযায়ী হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, লাইসেন্স প্রদানের সময় চালকদের শব্দসচেতনতার স্তর যাচাই করা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা করা জরুরি।
লেখকঃ আব্দুল মোমিন
সভাপতি- দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা। সভাপতি- দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থা।