লোহাগড়ায় গাছের শিকড় সরকারি জমিতে যাওয়ায় সার্ভেয়ার কে ঘুষ না দিলে মামলার হুমকি


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৬, ২০২২, ৩:৩৫ PM /
লোহাগড়ায় গাছের শিকড় সরকারি জমিতে যাওয়ায় সার্ভেয়ার কে ঘুষ না দিলে মামলার হুমকি

মোঃ আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার নড়াইল।

লোহাগড়ার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা বাজার রোড এলাকায় মালিকানা একটি রেন্ডি গাছ বিক্রি করলে লোহাগড়া উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ বাবুল আক্তার, কাশিপুর ইউনিয়ন নায়েব হায়দার আলী এবং অবসরপ্রাপ্ত সহকারি নায়েব ছানোয়র হোসেন ওই গাছ মালিক ও ব্যাপারীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন, টাকা না দিলে মামলায় জড়ানোর হুমকি ও দিয়েছেন মুঠোফোনে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নড়াইল জেলার লোহাগড়ার কাশিপুর ইউনিয়নের এডেন্দা গ্রামের হাজী মতিয়ার রহমান ও তার আরেক শরিক তাদের ১৫ বছর আগে রোপন করা গাছ বিক্রি করতে গেলে উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ বাবুল আক্তার,ও ইউনিয়ন ভুমি অফিসের নায়েব হায়দার আলী এবং কাশিপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী নায়েব এর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা মুঠোফোনে চেয়েছেন এমন অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের নিকট আসে।

জানা যায়, ৩ এপ্রিল সোমবার কাশিপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো:জালাল মোল্লার মার্কেটের সামনে এলজিইডি রাস্তার পাশে ১৫ বছর আগে লাগানো এড়েন্দা বাজার রোডে যেতে হাজী মতিয়ার রহমান ও তার আরেক শরিক ভাই তাদের কেনা মালিকানা জায়গাতে লাগানো কিছু গাছের মধ্যে থেকে একটা রেন্ডি গাছ বিক্রি করেন একই এলাকার কাঠের ব্যাপারী জাহিদ এর কাছে। ওই গাছ ব্যাপারী জাহিদের লোক কাটতে গেলে গাছ কাটাতে বাঁধা দেন কাশিপুর ইউনিয়নের নায়েব হায়দার আলী এরপর মতিয়ার রহমান তাদের জমির সমস্ত দলিল ও কাগজ দেখান নায়েব কে। এরপরে নায়েব মতিয়ার রহমান এর জমির কাগজ দেখে বলেন সার্ভেয়ার কে দিয়ে জমি মাপিয়ে দেখতে হবে এবং গত মঙ্গলবার সকালে লোহাগড়া উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আক্তার সরেজমিনে গিয়ে জমি মেপে দেখেন ওই গাছ মালিকানা জায়গাতে রয়েছে। এরপর তারা ওই জায়গা থেকে চলে যা।

ব্যাপারী জাহিদ সাংবাদিক আজিজুর বিশ্বাস কে বলেন সার্ভেয়ার ও নায়েব জমি মেপে চলে যাওয়ার কিছু সময় পরে হঠাৎ করে আমার মোবাইল ফোনে কল করেন ইউনিয়নের সহকারী নায়েব ছানোয়ার। তিনি বলেন, সার্ভেয়ার সাহেব বলেছেন ১০ হাজার টাকা দিতে হবে না দিলে আপনাদের নামে মামলা করা হবে।

এসময় কাঠের ব্যাপারী জাহিদ ছানোয়ার কে বলেন ভাই গাছতো মালিকানা জায়গাতে তাহলে কি মামলা হবে? তখন ছানোয়ার বলেন গাছের শিকড় সরকারি জমিতে গেছে।

এবিষয়ে লোহাগড়া ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আক্তার এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি টাকা চাওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন।

ইউনিয়নের নায়েব হায়দার আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন ভাই কিছু লেখার দরকার নাই কাল আসেন আমরা বসে কথা বলবো। এরপরে টাকা চাওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী নায়েব ছানোয়ার এর সাথে তিনি বলেন আমাকে সার্ভেয়ার ও নায়েব যা বলতে বলেছেন তাই আমি বলেছি, তিনি আরও বলেন কাল সকালে আপনি অফিসে আসেন কথা হবে।

গাছের মালিক হাজী মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, আমার কেনা জায়গায় আমি গাছ লাগিয়েছি এ বিষয়ে তাদের বললাম অথচ তারা আমাকে এভাবে হেনস্তা করল।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোসলিনা পারভিন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন তাদের ডেকে বিষয় টা দেখবেন বলে তিনি জানান।