রাশিয়ার পেমেন্ট অনিশ্চিত বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা হতাশ


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ৬, ২০২২, ২:৫০ PM /
রাশিয়ার পেমেন্ট অনিশ্চিত বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা হতাশ

মোহাম্মদ মাসুদ চট্টগ্রাম।

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় শতাধিক গার্মেন্টস মালিক সহ বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা হতাশ। রপ্তানিকারকরা তাদের লেনদেনের পণ্যের মূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন দুশ্চিন্তাচিন্তিত,কঠিন ও জটিলতাসহ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৫মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে-বিজিএমইএ ফোরামে সভাপতি,এশিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক,বিজিএমইএ সাবেক প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ও পরিচালক,চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেজারার,বরেণ্য শিল্পপতি মুহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন- আমার রাশিয়া-ইউক্রেনের সাথে কোন ব্যবসায়িক লেনদেন নাই।

সেই জায়গায় থেকে আমার অভিজ্ঞতাও নাই। তবে আমার জানামতে বাংলাদেশের সাথে রশিয়ার সাথে ৩/৪ শত বিলিয়ন ডলার গার্মেন্স এক্সপোর্ট হয়। পরিস্থিতির কারণে পেমেন্টে অসুবিধা ও সমস্যা হবে।

গতকালও শুনলাম যে সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র সচিব সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করার জন্য বলেছেন সবাইকে । আর নতুন অর্ডার নিলেও আসবে ৩/৪ মাস মাস পরে। আমরা তো বিক্রি করি ৩মাস আগে। লেনদেন সংক্রান্তে বাজারে চলে আসছে গেছে এগুলো দেখে শুনে বুঝে বলতে পারব। তারপরেও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশের অর্থনীতিতে অবশ্যই প্রভাব পরবে। আর কতটা পড়তে পারে তা পর্যায়ক্রমে বুঝা যাবে।

গম তো বেশিরভাগ ঐদিক থেকেই আসে। ইতিমধ্যে গমের দাম আগের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে টন প্রতি ৩/৪ ডলার বেড়ে গেছে যার প্রভাব দেশেও পরবে। আর রেডিমেট গার্মেন্স সরাসরি ভাবে এফেক্ট পরবে।এফেক্ট না হওয়ার কোনো কারণ নাই। এফেক্ট হবে।

উল্লেখ্যঃ তথ্য সুত্রে জানা যায়- আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়ার ৭ প্রতিষ্ঠানকে বাদসহ অনেকের সম্পত্তি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে পর্যায়ক্রমে পুরাপুরি ভাবেই বাদ দেওয়ার মতে পৌঁছেছেন পশ্চিমা নেতারা।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ফ্রান্স,জার্মানি,ইতালি, যুক্তরাজ্য,কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন তাদের নিত্যনতুন কঠোরতার কথা যা প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিক মন্তব্যে ।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে শিপিং লাইনগুলো তাদের মস্কোমুখী সকল কন্টেইনার পরিবহনের বুকিং বাতিল করছে। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার বাজারের কার্যাদেশ নিয়ে এখন রীতিমতো উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা।

তারা নিজ সদস্যদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং নতুন কোনো কার্যাদেশ না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। পাশাপাশি বিকেএমইএও তাদের সদস্যদের রাশিয়ান ক্রেতাদের থেকে সরাসরি অর্ডার না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

পোশাক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা বললেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। তবে রাশিয়ার বাজার মাঝারি আকারের। কারণ ইউক্রেনের পাশেই জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো বড় বাজার রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম আমরা। প্রতি মাসেই ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার বাজারেও আমাদের রপ্তানি বাড়ছিল।

কিন্তু যুদ্ধ সবকিছু ওলটপালট করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউরোপের কাছাকাছি দেশ হওয়ায় এই যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে চলমান ইউক্রেনের উপর হামলায় কৃষ্ণ সাগরের পানিপথে রাশিয়ান জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) তাদের আকাশসীমা দেশটির জন্য বন্ধ করেছে। ফলে উৎপাদন শেষ হওয়ার পরও পোশাকপণ্যের চালান রাশিয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। রাশিয়ান ক্রেতাদের আশ্বাস সত্ত্বেও চালানের মূল্য পাওয়ার (পেমেন্ট) বিষয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তৈরি পোশাক উদ্যোক্তারা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার সব ব্যাংকের বাদ পড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য পণ্যের মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সমিতি (বিজিএমইএ) রপ্তানিকারক কারখানা মালিকদের রাশিয়ান বাজার থেকে কোনো কার্যাদেশ না নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সূত্র জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় শতাধিক পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রাশিয়াতে সরাসরি বা তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পোশাকপণ্য সরবরাহ করছে।

যেমন- রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক রেনেসাঁস গ্রুপ। তাদের হাতে রাশিয়ার বাজারের ১৫ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ রয়েছে। এরমধ্যে কিছু পণ্য উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে,আরও বেশকিছু রয়েছে মজুত। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল আলম বলেন,গত কয়েক বছর ধরেই আমরা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছি। দেশটিতে আমাদের বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার।

তিনি জানান, কিছু পোশাক পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। তাদের কাছে পণ্য (প্রস্তুত উপকরণের) বড় মজুতও আছে, যা তারা আপাতত অব্যবহৃত রাখবেন। সাইফুল আলম আরো বলেন, আন্তর্জাতিক দু’টি কুরিয়ার সার্ভিস প্রোভাইডার- ডিএইচএল আর ফেডএক্স ইতিমধ্যেই আমাদের জানিয়েছে তারা রাশিয়াগামী কোনো পার্সেল গ্রহণ করবে না। জাহাজে পণ্য পরিবাহী একটি সংস্থা- ওরিয়েন্ট ওভারসিজ শিপিং লাইনও এ গন্তব্যের জন্য কোনো পণ্য চালান বহনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ আজিম বলেন,এর মধ্যেই রাশিয়ান ক্রেতাদের কাছে যেসব পণ্যের চালান পাঠানো হয়েছে তার পেমেন্ট পাওয়া নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ রাশিয়ান ব্যাংকগুলো সুইফট থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে।