মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টায় আসামি গ্রেফতার


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২২, ১:৫৫ PM /
মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টায় আসামি গ্রেফতার

মো.শফিকুল ইসলাম,চট্টগ্রাম:

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে ও গলায় রশি ঝুলিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ২০ বছর পর রায়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত পলাতক পাষন্ড স্বামী আব্দুল কাদের ওরফে গাঞ্জা কাদের র‍্যাব কর্তৃক আটক।

চট্টগ্রাম র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবসার জানান,গত ২৩ অক্টোবর ১৯৯০ইং সনে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠানগড় গ্রামের আবদুল কাদেরের সঙ্গে একই এলাকার মোহম্মদ আলীর মেয়ে নিহত ভিকটিম আবু তারার বিয়ে হয়।

বিবাহিত জীবনে তাদের পরিবারে ০১ টি পুত্র সন্তান এবং ০১টি কন্যা সস্তান জন্ম লাভ করে। ভিকটিমের স্বামী আবদুল কাদের মাদকাশক্ত ছিলেন। সে মাদক সেবনের নিমিত্তে বিয়ের পর থেকে প্রায় সময়ই তার স্ত্রী ভিকটিম আবু তারার কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করতো এবং টাকা না পেলে প্রায়ই অমানবিক নির্যাতন করতো। গত ২০০০ সালের ২৩ জুলাই রাতে আবদুল কাদের তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা মোতাবেক ঐদিন রাতে তার দুই সন্তানকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে আগেই অচেতন কারে রাখে এবং সারা রাত তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন, বেদম ভাবে মারধর করে এবং নির্মম ও নৃশংসভাবে গলা চেপে হত্যা করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য সে তার নিহত স্ত্রীকে ঘরের পাশে একটি গাছের সাথে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে এবং আশে পাশের লোকজনকে বলতে থাকে যে তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোহম্মদ আলী বাদী হয়ে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানায় ০৯ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যার মামলা নং-০৬/৩৪ তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০০১ ধারা-১১(ক) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) সাল। এই মামলায় ভিকটিমের স্বামী আব্দুল কাদের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অন্যতম প্রধান (এজাহারনামীয় ১নং) আসামী ছিল। উক্ত ঘটনাটি তখন প্রিন্ট ও ইলেট্রিক মিডিয়াসহ ভিকটিমের এলাকা তথা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার পর আসামী আব্দুল কাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় পলাতক থাকে। দীর্ঘ সাত বছর পলাতক থাকার পর পরবর্তীতে সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হয়ে তিন বছর জেল হাজতে ছিল। জেল হাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সে আবার লাপাত্তা হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খি. তারিখ সকল সাক্ষ্য প্রমানের উপর ভিত্তি
করে মহামান্য আদালত মামলার ১নং আসামী আব্দুল কাদের পলাতক থাকা অবস্থায় তাকে মৃত্যুদন্ড সাজা প্রদান করেন।

ঘটনাটি র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত আমলে নেয় এবং ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে ও গলায় রশি ঝুলিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ২০ বছর পর রায়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত পলাতক আসামী আব্দুল কাদেরকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রি. তারিখ ০৫১০ ঘটিকায় ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন পাঠানগড় কাচারি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী আবদুল কাদের (৫২), পিতা- মৃত শাহাবুদ্দিন, সাং-পাঠানগড়, থানা- ছাগলনাইয়া, জেলা- ফেনীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

উক্ত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিঃ তারিখ
আসামী আবদুল কাদের (৫২) এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ জারী হওয়ার পর সে স্ব-সম্বল নিয়ে তার বাড়ী থেকে মাত্র ০২ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পলায়ন করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু র‍্যাব-৭,চট্টগ্রাম এর কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ফেনী জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।