বামনডাঙ্গা নদী আকৃতি হারিয়ে মরা খালে পরিণত


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২২, ৪:৩৯ PM /
বামনডাঙ্গা নদী আকৃতি হারিয়ে মরা খালে পরিণত

দখলদারদের আধিপত্যে বামনডাঙা নদী এখন মরা খাল,

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নীলফামারী সদর উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া বামনডাঙ্গা নদী এখন নামে একটি ঐতিহ্যবাহী বড় নদী। যা গত ৩০ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীমহল ও কিছু দখলদারের কারণে আকৃতি ও প্রবাহ হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

নীলফামারী জেলায় নদী দখল করে স্থাপনা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কিছু দখলদাররা একশ্রেণির ভূমি কর্মীদের সহায়তায় নদীর বিভিন্ন অংশ নিজের জমি হিসেবে দখল করে রেখেছেন ফলে নদীর পরিধি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়েছে।

সরেজমিন বামনডাঙ্গা নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার এন্ডিং পয়েন্টে দেখা গেছে, কিছু প্রভাবশালী দখলদাররা নদীর বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন অন্যদিকে নদী ভিত্তিক এলাকার আবাসিকরা তাদের বাড়ির ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলে প্রায় ভরাট করে ফেলেছেন।

ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং নদীর প্রশস্ত আয়তনও ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে যেখানে প্রাক্কল্পিত ব্যয় প্রায় ৪ কোটি টাকা ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে মোট ৭ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে মাত্র ১,৪৩,০০,০০০ টাকায় মোট ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করেছেন।

শফিকুল আলম নামে এক স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, “বামনডাঙ্গা নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন নদী দখল করে স্থানীয়রা নদীর জমির বিভিন্ন অংশে তাদের স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে যদিও গত ৩০ বছর আগে নদীর প্রশস্ততা ছিল প্রায় ১০০ ফুট বামনডাঙ্গা নদীর।

অপর এক বয়স্ক গ্রামবাসী সুজা মৃধা নামে ওই এলাকার বাসিন্দা বলেন, এক সময় এই বামনডাঙ্গা নদীর ওপর দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা চলাচল করত এমনকি ওই এলাকায় একটি স্থলবন্দরও নির্মাণ করা হয়েছিল, স্থানীয়ভাবে একে শাখামাছা বন্দর বলা হতো বিভিন্ন জেলার মানুষ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করত এখানে।

এই বন্দর দিয়ে পণ্যের আনাগোনা ছিল চোখে পরার মত যদিও এটা এখন ইতিহাস মাত্র! আর দ্রুত পানি প্রবাহিত হওয়া বামনডাঙ্গা নদী নীলফামারী জেলার মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত হতে বসেছে।

সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির বলেন, কোনো সরকারি দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো নথি সংরক্ষণ না থাকায় এখন অনাগত হিসেবে পড়ে আছে বামনডাঙ্গা নদীটি। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, এলাকার শত শত একর ফসলি জমি হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে এ নদীতে।

বামনডাঙ্গা নদী বর্ষা মৌসুমে নীলফামারী জেলায় একটি দ্রুত পানি প্রবাহিত নদী হিসেবে ছিল কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ নদীর বিভিন্ন অংশে তাদের স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, যার ফলে নদীর পরিধি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে নিচু জমিসহ স্থাপনাগুলো পানিতে ডুবে যায়।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রধান আমিনুর রহমান বলেন, “আমরা গত ২০২০ সালে ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বামনডাঙ্গা নদীর মোট ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজ শেষ করেছি যদিও এর আনুমানিক ব্যয়মূল্য ছিল ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বামনডাঙ্গা নদীর বর্তমান গতিপথ ও দৃৃশ্যমান নদীর বিষয়ে তিনি বলেন, ডিসি অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসে বামনডাঙ্গা নদীর ম্যাপও রেকর্ড সংরক্ষিত না থাকায় এবং প্রভাবশালী মহলের দখল দারিত্বে থাকায় সম্পুন্ন কাজ করা সম্ভব হয়নি আংশিক কাজ করে সমাপ্ত রাখা হয়েছে এমনটি নিশ্চিত করেছেন।

বামনডাঙ্গা নদীর প্রকৃত রূপ দেওয়া সম্ভব না হলেও বামনডাঙ্গা নদীর গিনাল আকৃতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।