নীলফামারীতে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব, সংকুচিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী ঢেলাপীর হাট


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ৬, ২০২২, ৬:৩৬ PM /
নীলফামারীতে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব, সংকুচিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী ঢেলাপীর হাট

নাসির উদ্দিন শাহ্ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর সদর উপজেলার ঢেলাপীরে চলছে সরকারি সম্পত্তি দখলের মহোৎসব। এর ফলে সংকীর্ন হয়ে আসছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ঢেলাপীর হাট। সেই সাথে দখল হচ্ছে অর্থনৈতিক জোনের জন্য হস্তান্তরকৃত জায়গা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব জমি দখল করে নির্মান করছেন পাকা ঘর।

এছাড়া ঢেলাপীর বাজারের মধ্য দিয়ে যাওয়া সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কের ধারের অর্থনৈতিক জোনের জায়গায় পাকা ঘর তুলে দেওয়া হচ্ছে দোকান ঘর। ইতিমধ্যে সেখানে অর্ধশতাধিক দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সাথে এসব দোকান যারা ভাড়া নিচ্ছে তাদের কাছে সিকিউরিটি মানি হিসেবে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য এলাকাবাসী সোচ্চার হলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সূত্রমতে, ‘সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের সূবর্ণখূলী মৌজার ২৮.২৪ একর ও কাদিখোল মৌজার ৭৭.৮২ একর মোট ১০৬ একর খাস জমি গত ২০১৬ সালের ২৩ শে মার্চ দীর্ঘমেয়াদী লীজ দলিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কে দেওয়া হয়।

সরকারের পক্ষে ভুমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে নীলফামারী জেলা প্রশাসক এই দলিল সম্পাদন করে দেন। জেলার ঐতিহ্যবাহী ঢেলাপীর হাটের সাথে লাগানো বেজার জমি। গত ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি সহ ঐতিহ্যবাহী ঢেলাপীর হাটের জমি অধিগ্রহণ করে হাট বৃদ্ধি করেন।’

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সরকারী হাটের জমি ও লীজকৃত বেজার জমিতে একাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ নির্মান করে চলেছেন কতিপয় ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট। এছাড়া সম্প্রতি ঢেলাপীর হাটের জমি ও বেজার জমিতে ভূমি দস্যুরা ঘরবাড়ি তুলে মোটা অঙ্কের টাকার বানিজ্য করছেন। অভিযোগ উঠেছে এই ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত সংগলশী ইউনিয়ন তহশীলদার মো. রেজোয়ান হোসেন।

ভূমি দস্যু ও তহশীলদার রেজোয়ানের যোগসাজসে চলছে এসব সরকারি জমি দখলের কাজ বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী। জমি দখলের বিষয়ে অর্থনৈতিক জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাশেম সাহেবের মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এটি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জায়গা এর জমি দখলের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

জমি দখলের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানালে সংগলশী ইউনিয়নে নিযুক্ত তহশীলদার সহকারী কমিশনারকে ভুলভাল বুঝিয়ে বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করান বলে অভিযোগ ঢেলাপীর হাটের ইজারাদার মোতালেব হোসেনের।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গেল ফ্রেব্রুয়ারী মাসের ২৩ তারিখ সকালে আমি তহশিলদারকে ফোন দিয়ে বলি অর্থনৈতিক জোনের জমিতে ভূমি দস্যুরা ঘর উঠাচ্ছেন জবাবে তহশীলদার বলেন তারা ঘর উঠাচ্ছে তাতে আপনার অসুবিধা কোথায়। তখন আমি বলি দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারি জমি দখল হচ্ছে সেটি আপনাকে জানাচ্ছি আপনি ব্যবস্থা নিবেন না? এভাবে বলার এক পর্যায়ে তার সাথে আমার বাক-বিতন্ড ঘটে।

হাট ইজারাদার আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই ঢেলাপীর হাটের সরকারি জমি দীর্ঘদিন থেকে দখল করে মানুষ অবৈধভাবে বিভিন্ন পাকা স্থাপনা ঘরবাড়ী নির্মাণ করেছেন।এতে সংকুচিত হচ্ছে ঢেলাপীর হাট।

জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে হাটের জায়গা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ ২০১০ সাল থেকে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার ফলে সরকার একটি মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং পকেট ভারি হচ্ছে ভূমি দস্যু ও তহশীলদারের।’

জানতে চাইলে তহশীলদার মো. রেজোয়ান হোসেন কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘সব কিছু এ্যাসিল্যান্ড স্যার জানেন।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘অর্থনৈতিক জোনের হস্তান্তরকৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মান করার কথা আমরা বেজা কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আর সরকারি হাটের সম্পত্তি কেউ দখল করতে পারে না। শীঘ্রই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’