নওগাঁয় পুলিশের যোগসাজশে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মারপিটের মামলায় যুবকের হাজতবাস


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ৯:১১ PM /
নওগাঁয় পুলিশের যোগসাজশে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মারপিটের মামলায় যুবকের হাজতবাস

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের যোগসাজশে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মারপিটের মামলায় মুর্তজা শাহাদত সাধনসহ ৪ ব্যক্তিকে হাজত খাটানো অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপূরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মুর্তজা শাহাদত সাধন।

অভিযোগকারি মর্তুজা শাহাদত সাধন ন‌ওগাঁ সদর উপজেলার বলিরঘাট গ্রামের মৃত: ইয়াছিনের ছেলে।

অভিযোগে জানা গেছে, মাস দু’য়েক আগে স্থানীয় চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিতরণের সময় পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলম রুবেল কর্তৃক গরিব ও অসহায় মানুষ, মৃত এবং প্রবাসী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ভিজিএফ এর চাল আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে সাধনসহ এলাকার কয়েকজন যুবক এর মৌখিক প্রতিবাদ করেন। এই সরকারি চাল আত্মসাতের সংবাদ জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দূর্নীতি দমন কমিশন বরাবর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলম রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যান থানা পুলিশের যোগসাজশে চেয়ারম্যানের এক সহযোগিকে দিয়ে গত ২৭ আগস্ট সাধনসহ চারজনকে আসামি করে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা, মারপিটসহ একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করেন ।

মামলায় তিনিসহ অপর দুই আসামি বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন । এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনিসহ তিন জন জামিনে মুক্তি হওয়ার পর আবারও চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন । এ ঘটনায় একাধিক সদর থানা পুলিশ থেকে কোন সহযোগিতা করছে না তিনি অভিযোগ আরো উল্লেখ করেন।

অভিযোগে মুর্তজা শাহাদত সাধন আরো উল্লেখ করেন, থানায় কোন আইনের সহযোগিতা পাননি । এই মিথ্যা ও পরিকল্পিত মামলা থেকে অব্যাহতি ও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ওই চাঁদাবাজির মামলার বাদি ও ইউনিয়ন যুবলীগ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদ হাসান জানান, বিভিন্ন সময় মামলার চার আসামিরা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে আসছিলেন । দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় ২৬ আগস্ট রাতে ডাক্তারের মোড়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অবস্থানকালীন চেয়ারম্যান এর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাধা দিলে তিনিসহ অন্যান্যরা আহত হন ।

ঘটনায় তাৎক্ষণিক ৯৯৯ কল সেন্টারের অভিযোগ করলে থানা পুলিশ এসে চাকুসহ একজনকে আটক করে । তবে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি আরো বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলম রুবেলের সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলো রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে
নওগাঁ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এ ঘটনায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হক জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত জানা নেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।