দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসা পর্ব-২: মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন মামলা চলমান


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২৩, ২০২২, ৩:৩৭ PM /
দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসা পর্ব-২: মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন মামলা চলমান

দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসা পর্ব-২: মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন মামলা চলমান

দেশবাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:

দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন মামলা করেছেন স্থানীয়রা, যা গত কয়েক বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের নারায়ণ চন্দ্র রায় নামে এক ভুক্তভোগী গত ২০১৩ সালে প্রধান আসামি করে দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন সুপার আবদুল মোমেন।

অপরদিকে সুপার আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটের মামলা করেন আফতাব উদ্দিন নামে স্থানীয় অপর একজন ব্যক্তি। আফতাব উদ্দিন তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আব্দুল মোমেন প্রতিষ্ঠাতা সুপার পদে প্রথম শ্রেণির কামিল সার্টিফিকেট দেখিয়ে নিয়োগ গ্রহণ করলেও তিনি কামিল পরীক্ষায় ৩য় শ্রেণি অর্জন করেছেন।

এবিষয়ে অভিযোগকারী আফতাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, স্থানীয়রাসহ আফতাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, “আফতাব উদ্দিন সুপারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করার কিছুদিন পর তিনি মৃত্যু বরণ করেন”।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “সুপার আব্দুল মোমেন নিয়োগের পর থেকে সুপার গ্রেডে বেতন তুলছেন, যদিও তিনি তার ৩য় শ্রেণীর কামিল সার্টিফিকেট অনুযায়ী এ পদের অযোগ্য । স্থানীয় সচেতন সমাজ মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মোমেনের দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও তিনি মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও লক্ষ্মীচাপ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের আশ্রয়ে বারবার বেঁচে যান মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মোমেন” এমনটি জানা গেছে।

তিনি আরো বলেন, “মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মোমেন কাউকে কিছু না বলে বেশির ভাগ সময় মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকলেও উপস্থিতি রেজিস্টারে তিনি নিজেকে উপস্থিত দেখিয়ে ১০/১৫ দিনের স্বাক্ষর এক দিনেই করেন। অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি অযোগ্য ও মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেছেন তিনি। মাদ্রাসা সুপার আব্দুল মোমেন মাদ্রাসার সভাপতি ও লক্ষ্মীচাপ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের মদদে প্রকাশ্যে তার অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে”।

“দুবাছুড়ি বিএল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মোমেনকে তার সার্টিফিকেট ও মামলার বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করলে তিনি মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কামিল পরীক্ষায় আমার ৩য় শ্রেণী ছিল, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা থেকে কামিল ১ম শ্রেণীর সার্টিফিকেট এনে দিয়েছি” কুমিল্লার কোথা থেকে পেলেন এবং কোথায় সার্টিফিকেট দিয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কিছু জানিনা, কিছু বলেতে পারবো না”, বলেই তিনি হঠাৎ মাদ্রাসা থেকে চলে যান।

এবিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) নীলফামারী মোহাম্মদ শফিকুলের সঙ্গে তার কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি অফিসের কাজে বাহিরে থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গেল বছরের জাতীয় শোক দিবসসহ সরকারী কোন দিবসই পালন করেননি মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মোমেন। এছাড়াও জাতীয় দিবসগুলিতে প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ এসব জাতীয় দিবস পালনে অনিহা প্রকাশ করেন সুপার। চলতি বছরের গত ৭ মার্চ ও ১৭মার্চ দিবসগুলো মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের চাপের মুখে পড়ে শত অনিহা থাকা সত্ত্বেও ব্যানার ছাড়াই অনেকটা দায় সারা ভাবেই পালন করেছেন দুবাছুড়ি মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মোমেন৷