ঝিনাইদহে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আদম ব্যবসায়ী আলমগীর মাষ্টারের অর্থলোভে প্রতারণার স্বীকার তিনটি পরিবার


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২১, ২০২২, ৮:৪৯ PM /
ঝিনাইদহে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আদম ব্যবসায়ী আলমগীর মাষ্টারের অর্থলোভে প্রতারণার স্বীকার তিনটি পরিবার

আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে কালুহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কালুহাটি গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আলমগীর হোসেন পেশায় একজন শিক্ষক হলেও শিক্ষকতা করার পাশাপাশি আদম ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত।

বিদেশে লোক পাঠিয়ে ভালো চাকরি দেবার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আলমগীর হোসেন মারফত পাঠানো মানুষ গুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেশে বসবাস করা পরিবার গুলো সব হারিয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে জীবনযাপন করছেন।

কুঠিদূর্গাপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে ওলিউল্লাহ, শরিফুল ইসলামের ছেলে রাসেদুল ও শহিদুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম সজল নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে বড় আশায় গিয়েছেন সৌদি আরব। তাদের বলা হয়েছিল রেষ্টুরেন্ট কোম্পানিতে ভালো কাজ দেবেন এবং অনেক টাকা বেতন পাবেন। যে কাজ দেবার কথা বলে তাদেরকে বিদেশ পাঠিয়েছিল আলমগীর মাষ্টার সে কাজ তারা না পেয়ে এখন একটি হাসপাতালে ক্লিনারের কাজ করছে চুরি করে কারন তাদের এখনো আকামা হয়নি।অবৈধ ভাবে বিদেশ থাকায় যে কোন সময় ধরা পড়তে পারেন পুলিশের হাতে। আজ আট মাস হলো বিদেশে গিয়ে একটি টাকাও দেশের বাড়ি পরিবারের নিকট পাঠাতে পারেনি।

রাশেদুলের বাবা আতিয়ার ও মা পাপিপা বলেন অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে হালের গরু বেঁচে সমিতি থেকে লোন নিয়ে মাঠের জমি বন্ধক রেখে আলমগীর মাষ্টারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। ছেলে আমার এখনো কোন কাজ পায়নি এখন চুরি করে না খেয়ে ঐদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শরিফুল ইসলাম বলেন কি বলবো ভাই মনে করেছিলাম আলমগীর মাষ্টার মানুষ মনে হয় ফাঁকি দেবে না কিন্তু সেও প্রতারণা করে ভালো চাকরি দেবার কথা বলে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে ছেলেকে সৌদি পাঠালো এখন শুনছি ছেলে আমার না খেয়ে বিদেশের মাঠিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

আটমাস পার হলেও এখনো আকামা করতে পারেনি।ছোট একটি চার বছরের বাঁচা রেখে গেছে আমি না পারছি তাদের মুখে খাবার তুলে দিতি না পারছি ধার দিনাওয়ালাদের টাকা পরিশোধ করতে। রাতদিন পাওনাদাররা বাড়ির উপর আসছে টাকার জন্য এখন আমার মরা ছাড়া কোন উপায় নেই। সমিতি থেকে যে এক লাখ টাকা তুলেছিলাম সে টাকার কিস্তি দিতে না পারায় মেম্বারে মাধ্যমে আলমগীর মাষ্টারকে বললে সে ২০ হাজার টাকা দেয় এবং বলে ছেলে বেতন ফেলে এই টাকা ফেরৎ দিতে হবে।

আমিনুল ইসলাম সজলের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন আমার ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে খুব কষ্টে আছে আলমগীর মাষ্টার যে কাজ করার কথা বলে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছে সে কাজ পায়নি। সে এখন একটি হাসপাতালে ক্লিনারের কাজ করছে তাও চুরি করে। একজন মাষ্টার যে এতো খারাপ মানুষ হয় আমার জানা ছিল না, গুনে গুনে চার লক্ষ টাকা দিয়েছি আলমগীরের হাতে ।তবে গ্রামের মেম্বার মাতুব্বরগণের নিকট বললে সে আমার দুরাবস্থার লাগবে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে তবে এটাকা ছেলে বেতন পেলে নাকি ফেরত দিতে হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারগণ উক্ত গ্রামের মাতুব্বর আবদার হোসেন, সামসুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মজনু মিয়া ও ওজেূল খানের মাধ্যমে আদম ব্যবসায়ী আলমগীর মাষ্টারের নিকট টাকা জমা দেন। মজনু মিয়া ও সামসুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন হ্যা আমরা গ্রামের মাতুব্বর হিসেবে উপস্থিত ছিলাম এবং টাকা আলমগীর মাষ্টারের নিকট তারা টাকা জমা দিয়েছেন।

এব্যাপারে আলমগীর মাষ্টার বলেন আমি নিজে বিদেশে লোক পাঠাই না আমার একজন বন্ধু আছে মাহিন নামে বাড়ি যশোর ঢাকায় অফিস আছে সেই মুলত লোক পাঠায়। আমি কুঠিদূর্গাপুরের তিনজন ছেলের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ করে টাকা নিয়ে বন্ধু মাহিনের মাধ্যমে বিদেশ পাঠিয়েছি এবং তারা সেখানে গিয়ে কাজও করছে। তবে যে কাজ পাবার কথা সে কাজ এখনো পায়নি তবে পাবে। আকামার ব্যাপারে বললে তিনি বলেন না আকামা পায়নি।তবে তাদের বেতন না হওয়ায় আমি তাদের পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছি।

এব্যাপারে গান্না ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মিলনুজ্জামান মিলনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আলমগীর মাষ্টার প্রধান শিক্ষক হলেও খুব চালাক মানুষ সে তাদের বেতন বাবদ টাকা দিয়েছে এবং তা তাদের কাছ থেকে নিয়েও নিয়েছে। বিদেশে যায় মানুষ দুটো পয়সা আয় করতে কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না বরং চুরি করে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালুহাটি গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন আলমগীর মাষ্টার প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুল কমিটির সভাপতির মাধ্যমে তিনটি নিয়োগ দিয়েছেন এবং সেখানে সে ব্যাপক নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। অবশ্য এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন সকল নিয়ম মেনে নিয়োগ দেওয়া আছে।