ঝিনাইদহে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলাকে কুপিয়ে জখম থানায় এজাহার দায়ের


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২২, ৭:৪৪ PM /
ঝিনাইদহে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলাকে কুপিয়ে জখম থানায় এজাহার দায়ের

আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামের আলামত ও সালামত আপন দুই সহোদর বানিয়াকান্দর গ্রামের এক বিধবা মহিলাকে দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তায় বাড়ি যেখানেই দেখা হতো সেখানেই কুপ্রস্তাব অশালীন কথাবার্তা ও অশ্লীল প্রস্তাব দিতে থাকে। গত ২ এপ্রিল দুপুর বেলা বিধবা মহিলা তার বসত বাড়ি সংলগ্ন অনুমান ১০০ গজ পশ্চিম পার্শ্বে নিজ জমি থেকে শুকনা মেহগুনি গাছের ডাল কাটাকালে সালামত ও আালামত আরও বেশ কয়েকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

বিধবা মহিলা তখন তাদের গালি দিতে নিষেধ করায় শুকুর আলীর হুকুমে সালামত তার হাতে থাকা গাছ কাটা সোল- দা দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে বিধবা মহিলার মাথার বর্মচান্দির উপর কোপ মেরে গুরুতর হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম করে। শুকুরের আর এক ছেলে আলামত লোহার শাবল দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করলে মহিলা বাম হাত দিয়ে ঠেকালে উক্ত আঘাতটি বাম হাতের বাহুতে লেগে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। এছাড়াও সালামত ও আলামতের স্ত্রীরাও বিধবা মহিলাকে মারধর করেন।

মহিলা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পড়ে গেলে তার ছেলে এসে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিধবা মহিলা উপায়ান্তর না পেয়ে আসামি ১| সালামত (৪৭), ২| আলামত (৪০),উভয় পিতা শুকুর আলী মন্ডল, ৩| মিসেস সালামত( ৪১),স্বামী সালামত, ৪| মিসেস আলামত( ৩৩)স্বামী আলামত, ৫| শুকুর আলী (৬৫) পিতা মৃত কিতাবদি মন্ডল, সর্বসাং বানিয়াকান্দর, থানা ও জেলা,ঝিনাইদহ গনদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মহিলা বলেন আসামিগণ সবাই আমাকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন।

বিধবা মহিলার পুত্র হৃদয় হোসেন ছুটে এসে রক্ষা করতে গেলে ২ ৩ ৪ ও ৫ নং আসামি লোহার শাবল ও লাঠিসোটা দিয়ে হৃদয়ের শরীরে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে ফোলা ও বেদনাযুক্ত কালশিরা জখম করে। মারামারির এক পর্যায়ে ৩নং আসামি বিধবা মহিলার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন ছিড়ে নিয়ে যায় যার আনুমানিক মূল ৭০ হাজার টাকা। বিধবা মহিলা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার উপর নির্যাতনের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে সময়ে ৫নং আসামি শুকুর আলী একজন কুখ্যাত ডাকাত ছিল।

তাছাড়া খুন, নারী ধর্ষণ সহ একাধিক মামলার আসামী ছিল। এব্যাপারে এজাহারে উল্লেখিত আসামিগণের বাড়িতে গেলে কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি তবে মামলার ৩নং আসামি সালামতের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বলেন মেয়ের বাড়ি থেকে সবে মাত্র এলাম তার নিকট বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি শুনলাম মারামারি হয়েছে এবং আমার শশুর নাকি হাসপাতালে ভর্তি তার নাকি হাতে কোপ লেগেছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা’র নিকট বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন এজাহার দায়ের করেছেন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।