ঝিনাইদহে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি: ড্রাগন চাষীদের মাথায় হাত!


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১, ২০২২, ৮:৪৩ PM /
ঝিনাইদহে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি: ড্রাগন চাষীদের মাথায় হাত!

আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহে গত ২৭ ফেব্রুয়ারীর ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কৃষকের ফসলের ক্ষেত। ধারণা করা হচ্ছে কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতির কবলে পড়বে চাষীরা।

ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ধান, পিয়াজ, ভুট্টা, হাইব্রিড কুল, পেয়ারা, পানের বরজ ও ড্রাগন ক্ষেত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর কেষ্টপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন শিক্ষা জিবন শেষ করে চাকরি না পেয়ে ৬০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ড্রাগন চাষ করেছিলেন।

ভাগ্য হয়তো সাথে ছিল না কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সমস্ত গাছের ডগা সব নষ্ট হয়ে গেছে তাতে করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ড্রাগন চাষী আনোয়ার হোসেন। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন কষ্টের নদীতে হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। একই গ্রামের ইকবাল হোসেন ও টিপু বিশ্বাস ফসলের মাঠে দাড়িয়ে নিজেদের কষ্টের কথা গুলো জানালেন।

ইকবাল হোসেন বলেন আমার ড্রাগন ক্ষেত, পেয়ারা বাগান ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ব্যাংক থেকে সহজশর্তে ঋণ নিয়ে জমিতে চাষ করেছি কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে এখন ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবো কি ভাবে ভেবে পাচ্ছি না।

তরুণ উদ্যোক্তা টিপু বিশ্বাস ভাগ্যের পরিবর্তন করতে গিয়ে একটু ভালো ভাবে চলার জন্য ৯২ শতাংশ জমিতে খুব কষ্ট করে গচ্ছিত টাকা খরচ করে ড্রাগন চাষ করেছেন বিধিবাম ভাগ্যাকাশে কালমেঘ গত ২৭ ফেব্রুয়ারীর কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সমস্ত ক্ষেতের গাছ একদম শিলাবৃষ্টির পর রোদে পুড়ে সমস্ত জমির ড্রাগন গাছের ডগা সাদা হয়ে গেছে। এই গাছে আর ফল হবার কোন সম্ভাবনা নেই। ধারণা করছি প্রায় দশ লক্ষ টাকা লোকসান হবে ।

একদিকে কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কুমড়াবাড়িয়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা কদর আলী মিয়া একটু স্বচ্ছলতার সহিত দিন যাপন করার জন্য ২৫ শতক জমিতে ড্রাগন ও ৪৬ শতাংশ জমিতে পিয়াজের চাষ করেছিলেন তার একই অবস্থা কালবৈশাখী ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেছে।

প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা হবে বলে জানিয়েছেন কদর আলী মিয়া। এরকম অনেক কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পথে বসার মতো হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে অসময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হবে তা অনেক চাষীরাই বুঝে উঠতে পারেননি।

এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার চাষীরা তাদের ফসলের শয়ক্ষতির কথা বলেন এবং সরকারি ভাবে তারা ক্ষয় ক্ষতি পূরণে আর্থিক প্রণোদনা সহায়তা পাওয়ার আশা করছেন। একাধিক চাষীরা বলেন সরকারি ভাবে যদি সাহায্য সহযোগিতা না পায় আমার থালা হাতে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় নেই।