জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর টাকা ফেরতের দাবী, এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২২, ১:১৯ AM /
জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর টাকা ফেরতের দাবী, এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সারাদেশে গত ১৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মিডিয়ার নজরে আসে। এতে শোনা যায় টাকার বিনিময়ে ভোট প্রদানের অঙ্গীকার করে কয়েকটি জেলায় ভোট কেনাবেচা করেন কিছু জনপ্রতিনিধি, কিন্তু ভোট প্রদান না করায় ঘটে বিপত্তি। এমনিভাবে নীলফামারীতে গত ১৭ তারিখের জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে লড়ে পরাজিত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সাজু ভোট কেনার বিনিময়ে বিতরণ করা প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরতের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। এতে ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে আলোচনা-সমালোচনা সহ ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেও ভোটার তথা ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের (ডোমার উপজেলা) সাধারণ সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সাজু। এরই জেরে আজ রোববার (২৩শে অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়নের চিলাহাটি বাজারের মদিনা হোটেলের সামনে ইউপি সদস্যদের সাথে জনসম্মুখে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

জানা যায়, ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১নং ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্য পরাজিত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সাজুর কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা ও চেকের মাধ্যমে আরও সাড়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু ইউপি সদস্যরা তাকে ভোট দেননি বলে অভিযোগ তার।

জনসম্মুখে পরাজিত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সাজু বলেন, আমাকে ভোট দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক নেন। যেহেতু তারা আমাকে জয়ী করতে পারেনি, তাই আমি চেকটি ফেরত নিতে এসেছি।

এবিষয়ে ১নং ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম (কালু) বলেন, পরিষদের সদস্যদের ভোট বিক্রয়ের নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে কেউ যদি চেক গ্রহণ করেন, তাহলে সেটি ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।

এমন ঘটনায় চিলাহাটি বাজারের জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী যাদু মিয়া জানান, যদি ইউপি সদস্যরা জেলা পরিষদের প্রার্থীদের কাছ থেকে ভোট দেওয়ার নাম করে টাকা গ্রহণ করে, তাহলে সাধারণ জনগণও তাই শিখবে। আগামীতে জনপ্রতিনিধিদের ভোট কেনার ব্যাপারে বেগ পেতে হবে। কেননা, তারা এমন করলে নিশ্চয়ই জনগণও তাই করবে।

উল্লেখ্য, নীলফামারী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডের (ডোমার উপজেলা) সাধারণ সদস্য পদে অটোরিক্সা প্রতীকে ৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মনজুর আহমেদ ডন। একই পদে মো. আতাউর রহমান সাজু তালা প্রতীকে ৩য় স্থান অধিকার করেন।