চট্টগ্রামে জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২২, ১১:৪৮ PM /
চট্টগ্রামে জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

মোহাম্মদ জুবাইর চট্টগ্রাম।

বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার বিকালে এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সুচিকিৎসার বাস্তবায়নের একমাত্র সংগঠন জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা শাখার কার্যালয়ে বিকাল ৩ টায়
আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কর্মসূচি সংগঠনের জেলা সদস্য মুহাম্মাদ ইউসুফ সওদাগর’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক ও জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা,ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ।

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
এডভোকেট মুহাম্মাদ নঈম চৌধুরী, মাওলানা মহিউদ্দিন কাদের চৌধুরী,জেলা শাখার সদস্য মুহাম্মাদ শাহাবউদ্দীন।জেলা শাখার সদস্য মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসাইন সুমন কমলনগরীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মুহাম্মদ মহসিন,তাসজিদুর রহমান পিয়াল সহ চট্টগ্রাম জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি ডা.এম এম মাজেদ তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার পালিত হয়েছে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২২ বর্তমান বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম।

সারা বিশ্বে বেড়েই চলেছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। পুরুষের তুলনা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নারী।বাংলাদেশে দিন দিন কিডনি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক জন কিডনি রোগী তার শরীরের দু’টি কিডনিই যখন ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বিকল হয়ে পড়ে তখনই তিনি এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। এ কারণে রোগ ধরা পরার পর রোগী চিকিৎসার জন্য খুব কম সময়ই পান।

দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমূল্যের ডায়ালিসিস করানোর মাধ্যমে কিডনিকে সচল রাখা যায়। তবে এর খরচ ব্যয়বহুল। ডায়ালিসিস এবং প্রতিস্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশির ভাগ রোগীর পক্ষেই এর চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া কিডনি পাওয়া সাপেক্ষে কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ কমবেশি হলেও ৫-৭ লাখ টাকা এবং পাশাপাশি সারা জীবন ওষুধের খরচ চালাতে হয়।

বিশ্বব্যাপী কিডনি রোগীর সংখ্যা এবং এর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিক ভাবে গণনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ এক জন রোগী হৃদরোগে মারা গেলে তাকে হৃদরোগী ধরা হয়, কিডনির জন্য হৃদরোগের কারণ ধরা পড়ে না। অনেকেরই কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগীরা বুঝতে পারে না এ রকম একটি ভয়াবহ রোগ তার শরীরে বাসা বেঁধেছে।

যাঁদের ডায়াবেটিস আছে অথবা যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস আছে, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে বা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা আছে, তাঁদের বছরে অন্তত এক বার কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনি অকার্যকর হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো ডায়াবেটিস, নেফ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে জীবাণুর আক্রমণ, সিসটিক ডিজিজিস, বিশৃঙ্খল জীবনযাপন। আর ভেজাল ও কৃত্রিম খাবারের এ যুগে বড় একটি সমস্যা হল কিডনিতে পাথর।

রক্তের ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন লেভেল পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদির মাধ্যমে কিডনি সমস্যা পরীক্ষা করা যায়। রোগ ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া করলে সুস্থ থাকা যায়। দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করার মাধ্যমে কিডনি রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। মনে রাখতে হবে কিডনিকে সুস্থ রাখতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।