কুষ্টিয়ায় এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ৬, ২০২২, ১:২৮ PM /
কুষ্টিয়ায় এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকায় সুরাইয়া খাতুন (০৭) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (০৫ মার্চ) রাতের দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুরাইয়া কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিলপাড়া এলাকার রুবেল আলীর মেয়ে। সে আলাউদ্দিন আহমেদ একাডেমি স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মাছ ব্যবসায়ী।

সুরাইয়ার মা ইমা খাতুন বলেন, প্রতিদিন বিকেলে মেয়ে খেলতে যায়। খেলা শেষ হলে মাগরিবের আগে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু আজ সন্ধ্যা পার হলেও সে বাড়ি আসেনি। পরে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। পরে রাত ৭টার দিকে টিনের ঘরে গিয়ে দেখি ঘরের ডাপের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। আমার মেয়ের কি হলো বুঝতে পারছি না। এতটুকু শিশু আত্মহত্যা করবে কেন? আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মেয়ে না। কিভাবে কি হলো আল্লাহ ভালো জানে।

সুরাইয়ার বাবা রুবেল আলী বলেন, আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। ফোন পেয়ে বাড়ি এসে দেখি মেয়ে মারা গেছে। ঘরের মধ্যে আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। আমার স্ত্রী ওড়না কেটে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করবে কেন? সেতো আত্মহত্যা কী তাই বোঝে না।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশরাফুল আলম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁসে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০, ১১, ১২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর রিনা নাসরিন বলেন, সুরাইয়া নামে শিশুটির মৃত্যু রহস্যজনক। ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কিশোর কুমার ঘোষ বলেন, ঘটনা কী ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁসে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।