কুমারখালীতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে ১জনের ফাঁসি, ২জনের আমৃত্যু ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২২, ৫:৪৫ PM /
কুমারখালীতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে ১জনের ফাঁসি, ২জনের আমৃত্যু ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন

এনামুল হক ইমন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বহুল আলোচিত ইমরান শেখকে (২২) অপহরণের পর হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের ১ জনের ফাঁসি, ২জনের আমৃত্যু ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থ দন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদান শেষে পুলিশের কঠোর পাহারায় আসামীদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুর রহমান ওরফে পিরু মিঠুন। তিনি কুমারখালী উপজেলার দড়ি কোমর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাউজিং এস্টেট এলাকার ফজলুল বিশ্বাসের ছেলে মেহেদী হাসান জজ ও কুমারখালী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমারখালী উপজেলার সোন্দাহ গ্রামের শহীদ বিশ্বাসের ছেলে নাহিদ হাসান, খোকসা উপজেলার চক হরিপুর গ্রামের মুন্সি নাসির উদ্দিনের ছেলে মুন্সি অনিক হাসান ওরফে ইমরান ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার তুলশীতলা গ্রামের আফাজুদ্দীনের ছেলে ওয়াদুদ ওরফে রাজু। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ই মার্চ নিহত ইমরান শেখ উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর মধ্যেপাড়া গ্রামের বাড়ী হতে একটি পালসার মোটর সাইকেল নিয়ে বের হন। পরে রাত পর্যন্ত বাড়ীতে ফিরে না আসলে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না মিললে নিখোঁজের ২ দিন পর নিহতের স্বজনেরা দড়ি কোমরপুর ভুট্টা খেতের মধ্যে একটি মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকার সংবাদ পান। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমরান শেখের লাশ সনাক্ত করেন।

নিহতের পরিবার জানতে পারেন ইমরানের মোটরসাইকেল চুরির উদ্দেশ্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল নিয়ে যায়। এই ঘটনার তিন পর নিহতের বাবা বাদশা শেখ কুমারখালী থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ২৯ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।