করোনার টিকা নিবন্ধনে ৭৪ শতাংশ মানুষের অর্থ খরচ- সনাক


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : মার্চ ২৭, ২০২২, ৫:১৮ PM /
করোনার টিকা নিবন্ধনে ৭৪ শতাংশ মানুষের অর্থ খরচ- সনাক

স্টাফ রিপোর্টারঃ

করোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন, কার্ড প্রিন্ট এবং টিকাকেন্দ্রে যাতায়াত করার জন্য নীলফামারীর ৭৪ শতাংশ মানুষের অর্থ খরচ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনুপ্রেণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকা কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব না মানা, বসার অপর্যাপ্ত স্থান, দীর্ঘ সিরিয়াল এবং সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় টিকাগ্রহীতারা ভোগান্তিতেও পড়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিআইবি পরিচালিত কমিউনিটি মনিটরিং প্রতিবেদনে নীলফামারীতে করোনা টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

রবিবার জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে টিআইবি-সনাক এর প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন সনাক সদস্য ফারহানা ইয়াসমিন ইমু।

টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান জানান, গত ১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে ওই মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে টিআইবির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। এ সময় ওই কেন্দ্রের ৭৫ জন বুথ ফেরত টিকা গ্রহীতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে টিকার ব্যাপারে জানতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১৫ জন প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

সনাক এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ খুব কম ছিল। ৮০ শতাংশ মানুষ টিকা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতেন। টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা ছিল ৫১.৪৩ শতাংশ মানুষের। কোন কোম্পানির টিকা গ্রহণ করা হচ্ছে সে সম্পর্কে ৩১.৪৩ শতাংশ মানুষের ধারণা ছিল। তবে করোনার টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। হরিজন সম্প্রদায়ের অর্ধেকের কম (২১%-৪০%) মানুষ টিকা গ্রহণ করেছেন।

টিকা নিবন্ধনের ১৫-৩০ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই এসএমএস পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে, দ্বিতীয় ডোজ টিকার ক্ষেত্রে ৪.৯৬% উত্তরদাতা ৩০ দিনের মধ্যে এসএমএস পেয়েছেন উল্লেখ করলেও ৬০ দিনের মধ্যে এসএমএস পেয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা ৭.৮৫% ছিল।

টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও সনাক এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সনাক এর ওই প্রতিবেদনে টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ হলো- অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, টিকা বিষয়ক ভীতি দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রচারণা জোরদার করা, টিকা নিবন্ধনে অর্থ খরচের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সঠিক সময়ে টিকার পরবর্তী ডোজের এসএমএস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা, নারীদের জন্য পৃথক অপেক্ষমাণ কক্ষসহ সকল নারীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য লোকবল রাখা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনা এবং তাদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা, টিকা প্রদানের আগে ও পরে গ্রহণকারীর টিকা গ্রহণের স্থান স্যানিটাইজ করা, এলাকায় নিবন্ধনের সুবিধা এবং দূরত্ব ও এলাকার জনসংখ্যা বিবেচনায় টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা, টিকা প্রদান সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা এবং এ বিষয়ে মানুষকে অবগত করা এবং টিকাদান কেন্দ্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদন উপস্থাপন ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক এর সভাপতি তাহমিনুল হক ববী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আজাহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল হাজ্জাজ, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ডা. মো. মজিবুল হাসান চৌধুরী শাহিন সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।