এলজিডি অফিসের নৈশ প্রহরীকে বেধরক পেটানোর অভিযোগ ইউএনও’র বিরুদ্ধে


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ১২:৩২ AM /
এলজিডি অফিসের নৈশ প্রহরীকে বেধরক পেটানোর অভিযোগ ইউএনও’র বিরুদ্ধে

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা সংবাদদাতাঃ

বগুড়ায় আলমগীর হোসেন শেখ(৪৫) নামের এক নৈশ প্রহরীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউএনও অফিসেই এ ঘটনা ঘটে। আহত আলমগীর সদর উপজেলায় এলজিডি অফিসের নৈশ্যপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার চক শিয়ালকোল এলাকার মৃত মেহের আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় আহত আলমগীর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, আলমগীর উপজেলা পরিষদের তিনতলায় সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন। তার স্ত্রী সিরাজগঞ্জে থাকেন। কিন্তু তিনি বগুড়ায় থাকায় তার স্ত্রীও তার সাথে থাকতে চান এবং দীর্ঘদিন ধরে বাসা ভাড়া নিতে বলেন। এ নিয়ে তার স্ত্রী কয়েক দফা আলমগীরের বিরুদ্ধে এলজিডি অফিসের ইঞ্জিনিয়ার বরাবর অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের সঠিক জবাব দেন আলমগীর। এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে থাকার জন্য আলাদ রুম চেয়ে আবেদনও করেন তিনি।

পরে গত বুধবার(২১ সেপ্টেম্বর) ইউএনও সমর কুমার পালের কাছে আবারও অভিযোগ করেন আলমগীরের স্ত্রী। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউএনও আলমগীরকে তার অফিসে ডেকে নেন। সেখানে দুই আনসারের সহায়তায় ইউএনও আলমগীরকে বেধরক মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তাকে অফিস থেকে এক অটোচালকের সহায়তায় উপজেলা পরিষদের বাইরে ফেলে আসেন দুই আনসার সদস্য।

আহত আলমগীর বলেন, ‘ আমাকে ইউএনও স্যার তার অফিসের অন্ধকার রুমে নিয়ে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারপর দুই আনসারের সহযোগিতায় আমাকে বেধরক মারেন। আমি বার বার ক্ষমা চাওয়া সত্ত্বেও আমাকে তিনি পেটানো থামান নি। আমার হাত এবং পা ভেঙে গেছে।’

আলমগীরের মেয়ে লোপা খাতুন বলেন, ‘বাবার বিরুদ্ধে আমার মা কোন অভিযোগই দেন নি। মিথ্যা অভিযোগে আমার বাবাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচারে অভিযোগ করবো।

জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক জানান, এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী আলমগীরের বাম হাত এবং ২টা আংগুলও ভেঙে গেছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও সমর কুমার পাল মুঠোফোনে জানান, আলমগীরকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। সে সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এমন করছে। সে গত রাতে তার স্ত্রীকে উপজেলা চত্ত্বরে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীরের স্ত্রীকে সিএনজি যোগে মেয়ের বাড়ি মাঝিড়ায় পাঠিয়ে দেন। আজ সন্ধ্যার পর আলমগীর উপজেলা চত্ত্বরে আসলে তাকে তার পারিবারিক ঝামেলা মিটিয়ে অফিসে আসতে বলা যায়। তারপর সে একটি গাছের নিচে শুয়ে থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে।