এবার আমাদের জীবনমরণ লড়াই করতে হবে: ফখরুল


DBkhobor24 প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২২, ৯:৪৬ PM /
এবার আমাদের জীবনমরণ লড়াই করতে হবে: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ

সরকার হটাতে এবারের আন্দোলনকে ‘শেষ লড়াই’ উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেব, আজকে আমরা শেষ লড়াই শুরু করতে চাই। এবার আমাদের জীবনমরণ লড়াই করতে হবে। এবার সেই জাগপার কথায় বলতে চাই, হয় জীবন না হয় মরণ।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে দলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে একটা দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলি। যা ওই উত্তাল সমুদ্রে যে সুনামি হয় সেই সুনামির মতো এই সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো, এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো।

তিনি বলেন, আমারা আজকের এই ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে পালন করছি। আমাদেরকে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে, যেন কোনোমতে তারা সুযোগ না পায়। আমাদেরকে তারা ভেঙে দিতে, গুড়িয়ে দিতে চেষ্টা করবে।

পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে নই। আমার ট্যাক্সের পয়সায় তাদের বেতন হয়, তাদের সংসার চলে, তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শেখে, তাদের বউ-বাচ্চাদের কাপড় দেয়। তাই না? তারা আমাদের লোকজনকে গুলি করে মেরে ফেলবে এটা কি আমরা মেনে নেবো?

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আপনাদের আমরা কখনো প্রতিপক্ষ বানাতে চাই না। আপনারা দয়া করে জনগণের প্রতিপক্ষ হবেন না। আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটা প্রতিষ্ঠান র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আপনারা কি চান পুলিশের ওপর এভাবে নিষেধাজ্ঞা আসুক? আপনারা কি চান এই বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করুক? আমরা এটা চাই না, নিশ্চয় চাই না।

আমরা সবাই আশা করবো জনগণের যে ন্যায্য অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার- সেজন্য পুলিশ সহযোগিতা করবে। যারা অন্যায় করছে, অবিচার করছে, যারা গুলি করে হত্যা করছে, যারা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মতো জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে- তাদের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। লড়াই শুরু করেছে, সেই লড়াইয়ে তারাও শরিক হবেন- এই আশা আমরা করতে পারি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। বার বার আঘাত এসেছে বিএনপিকে ধবংস করবার জন্যে, বার বার বিএনপিকে শেষ করে দেওয়ার কাজ হয়েছে। কিন্তু বিএনপিকে কখনো দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি, বিএনপি প্রতিবারই ধবংস স্তুপের মধ্যে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। এদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেছে বার বার।

তিনি বলেন, ১/১১ করে ওরা ভেবেছিল বিএনপিকে শেষ করে দেওয়া যাবে। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে, গুম-খুন করে ভেবেছিল বিএনপিকে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। কিন্তু এই ১৫ বছরেও বিএনপিকে ধ্বংস করা যায়নি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আজকে আবার ওই গ্রামের আইলের মধ্যে, সেই ধানের ক্ষেতের মধ্যে, গ্রামে-গঞ্জে বিএনপি জেগে উঠতে শুরু করেছে। ধানের গুচ্ছে আবার রক্ত জমেছে। সেই রক্তকে অবশ্যই আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে সারা দেশে।

তিনি বলেন, আমরা যে গণতন্ত্রের সংগ্রাম শুরু করেছি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে, সেই গণতন্ত্রের যুদ্ধে-লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যখন বিএনপি আন্দোলন শুরু করেছে মানুষের সমস্যা নিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে, চাল-ডাল-তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে- তখন তারা সেই আগের মতো গুলি করে হত্যা করছে আমাদের সহযোদ্ধাদের-সহকর্মীদের।

তিনি বলেন, গতকাল গুলি করে হত্যা করেছে আমাদের নারায়ণগঞ্জের যুবদলের কর্মী শাওনকে। কী লজ্জার, কী ধিক্কারের যে, কালকে একজন এমপি বলেছেন শাওন যুবদলের কর্মী নয়। আমি আজ সকালে গিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জে। আমাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মী, যুবদলের সব নেতাকর্মী, শাওনের পরিবার, মা, তার আত্মীয়-স্বজন সবাই বলেছে, অবশ্যই শাওন যুবদল করতেন। তিনি গতকাল মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। সেই ছবি গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

নিহত শাওনের ভাইকে দিয়ে জোর করে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা কত নোংরা হতে পারে। কী করেছে জানেন? গতকাল রাতে শাওনের মরদেহ তার আত্মীয়-স্বজনকে দেয়নি, আমাদের দলের নেতাকর্মীদের দেয়নি। শাওনের মরদেহ তারা গোপনে পুলিশ পাহারায় নিয়ে গিয়ে দাফন করেছে।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, শাওনের বড়ভাইকে দিয়ে জোর করে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে তারা একটা মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমি হুশিয়ার করতে চাই, যারা এই ধরনের মিথ্যা মামলা করাবেন, যারা এভাবে গুলি করে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করবেন, গণতন্ত্রের নেতা-কর্মীদের হত্যা করবেন- তাদের প্রত্যেকের সব হিসাব কড়ায়-গন্ডায় নেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমরা এরইমধ্যে ভোলাতে মামলা করেছি। ভোলায় নুরে আলম ও আব্দুর রহিমের হত্যা মামলা করেছি, আমরা অবশ্যই শাওনের হত্যা মামলা করবো। আপনারা যারা জেলায় জেলায় আমাদের কর্মীদেরকে আহত করছেন, তার প্রত্যেকটির হিসাব নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার ভয় পেয়ে গেছে। সেজন্য তারা আবার সেই ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৮ এর মতো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা শুরু করেছে। এই কায়দায় এটা করছে। সিরাজগঞ্জে করেছে, সেখানে আমাদের এক কর্মীর চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, নড়াইলে করেছে, নেত্রকোনায় করেছে, নারায়ণগঞ্জে করেছে। তারা ভেবেছে এভাবে আগের মতো গুলি করে, গুম করে যেমন ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে, চৌধুরী আলমকে গুম করেছে, আমাদের ছাত্র নেতাদের গুম করেছে- সেভাবে গুম করে তারা আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকবে। সেই চিন্তা করবেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, এবারে মানুষ জেগে উঠেছে, বাংলাদেশের তরুণরা জেগে উঠেছে, বাংলাদেশের যুবকরা জেগে উঠেছে। আপনাদের ক্ষমতার মসনদ গুড়িয়ে দেবে।

মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার শুরুতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজনে ‘হরিলুটের রাজা’ শীর্ষক পথ নাটক মঞ্চস্থ হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে বাংলাদেশের যে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এই নাজুক পরিস্থিতিতে আমাদেরকে প্রথম দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সংকটের সমাধান হবে রাজপথে। রাজপথে আমাদেরকে সেইভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আসুন এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা শপথ নেই। আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই রাস্তায় থাকবো। এটাই হোক আজকে শপথ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের গত কয়েকদিনে পাখির মতো গুলি করে মেরেছেন, তারা পিছপা হয় নাই। আমি বলতে চাই, এই কর্মীরা ভয় পাওয়ার কর্মী নয়। এরা ভয় পেতে পেতে এই জায়গায় এসেছে। আর কত ভয় দেখাবেন?

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুবদলের সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মির্জা-ফখরুল বিএনপি আন্দোলন রাজধানী নারায়ণগঞ্জ